শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ন
ডলারের বিনিময় হার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, এলসি-সংক্রান্ত জটিলতা, একক গ্রাহক ঋণসীমা সংকোচনসহ নানা জটিলতায় লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে কমছে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ। এমন পরিস্থিতি ব্যবসায়ীদের যেমন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তেমনই বন্দর থেকে সরকারের আয়ও সংকোচনের মুখে পড়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এ বন্দরে ৩২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ কোটি ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা, ঋণ সংকটসহ নানা কারণে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। এমন বাস্তবতায় আমদানি কমিয়ে দিতে হচ্ছে। ফলে এ স্থলবন্দরে রাজস্ব আয় কমেছে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমস সূত্র জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে ৩৫ কোটি ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব আয় করা হয়। এর বিপরীতে আয় হয় ৫৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য মাসভিত্তিক রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি।
বুড়িমারী স্থলবন্দর ব্যবহারকারী আমদানিকারক ব্যবসায়ী মেসার্স রাহি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. তারেক ইসলাম বলেন, ‘গত অর্থবছরে ডলারের বিনিময় হারে অস্থিতিশীলতার কারণে এলসি বিল পরিশোধ করতে গিয়ে আমার প্রায় ৫০ লাখ টাকারও বেশি লোকসান হয়েছে। ব্যাংক ও এনজিও থেকে নেয়া পুঁজি শেষ হয়ে গেছে। এর পরও অল্প অল্প করে আমদানি করছি।’
এ ব্যবসায়ী আরো বলেন, ‘আগে এলসি খুলতে বেশি নগদ অর্থের প্রয়োজন হতো না। মাত্র ২৫ শতাংশ মার্জিনের টাকা জমা দিলেই এলসি খোলা যেত। কিন্তু এখন মার্জিনেরও বেশিসহ ১২৫ শতাংশ টাকা জমা দিলেও এলসি খুলতে পারমিশন নিতে হয়। এতে আরো বেশি সময় লাগছে। আমরা প্রত্যাশা করছি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। তখন হয়তো সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। সবাই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে।’
বুড়িমারী স্থলবন্দরের অপর ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবীর সওদাগর বলেন, ‘গত অর্থবছরে হঠাৎ ডলার দর বৃদ্ধি পায়। চড়া দামে ডলার কিনে এলসির দায় পরিশোধ করতে গিয়ে অনেক ব্যবসায়ী নিজের পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন। এসব ব্যবসায়ী ব্যাংকে জমি-বাড়ি বন্ধক রেখে লিমিট সুবিধা নিয়েছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের মর্টগেজ লিমিট সুবিধা বন্ধ করে দেয়ায় এখন সম্পূর্ণ নগদ টাকায় এলসি খুলতে হচ্ছে। এজন্য আমদানি কমে গেছে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমে গেছে।’